ভারতীয় আগ্রাসনে ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব’ বিপন্ন!

ভারতীয় আগ্রাসনে ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব’ বিপন্ন!
ভারতীয় আগ্রাসনে ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব’ বিপন্ন!

ভারতের প্রতি বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ‘চিল (পাকিস্তান) এর থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করে শকুনের (ভারতে) খাদ্য হিসেবে দিয়ে রেখেছি’! বেশ কিছুদিন যাবত ভারতীয় বিএসএফ’র হত্যা, অপহরণ নির্যাতনের শিকার সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা।

কারণে অকারণে প্রায়ই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বাংলাদেশীদের হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন করছে তারা।

ভারতীয় স্মাগলার, মাদক, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা নাম মাত্র মূল্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক, ধ্বংস করছে যুব সমাজ।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের পাশাপাশি লুট করে নিচ্ছে বাংলাদেশী জেলেদের জাল, নৌকা ইত্যাদি।

সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হত্যা নির্যাতন অপহরণের সীমা অতিক্রম করেছে অতীতের সকল রেকর্ড! দিবালোকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের চোখের সামনে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকাররত বাংলাদেশী জেলেদের মারধর করে (পাঁচ জন কিংবা তারও অধিক সংখ্যক) ধরে নিয়ে গিয়েছে!

সরকারের স্বার্থে আঘাত আসবে তাই হয়তো বিজিবির প্রতি আদেশ নির্বিকার দাড়িয়ে তামাশা দেখার! পরবর্তীতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে অপহরণকৃত বাংলাদেশী জেলেদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী/কর্তৃপক্ষ ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং তাদের গরু চোরা চালানী হিসেবে চিহ্নিত করে জেলে প্রেরণ করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে ধরে নিয়ে বিভিন্ন বাংলাদেশীদের বিনা চিকিৎসায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। লাশটা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি। অথচ আমাদের সরকারের এ ব্যাপারে কোন উদ্বেগ, বা পদক্ষেপ নেই! সরকার উল্টো ভারতের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশীদের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কিংবা কূটনীতিকদের ডেকে হত্যা নির্যাতন অপহরণের জবাব, ক্ষতিপূরণ চাইতে ভয় পাচ্ছে। (কারণ এই সরকার ভারতের সহযোগিতা নিয়ে গত দশ বছর যাবত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হত্যা ধর্ষণ, নির্যাতন, গুম চালিয়ে যাচ্ছে)।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে ভারতের আকাশ সীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশীদের হত্যা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে অস্ত্র, খাদ্য ঔষধসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদী সরবরাহ করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং তামাশা দেখেছে। এরপর পাকিস্তানের উপার ভারতের পূর্ব শত্রুতা এবং বাংলাদেশের ভূমি দখল, বাংলাদেশের অর্থ সম্পদ লুট করার নিমিত্তে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে।

ফলশ্রুতিতে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের বিশাল ভূখণ্ড নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে যায়। শুরু করে দেশব্যাপী লুটপাটের। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশকে কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়নি। দেশ প্রেমিক নেতাদের কৌশলে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের সকল অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করে আসছে এবং কি বিশ্ব দরবারে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার, বিরুদ্ধাচরণ করছে (প্রকাশ্যে এবং পিছনে)।

সর্বশেষ বাংলাদেশের কিছু লোভী, রাষ্ট্র দ্রোহী সেনা, আমলা এবং একটি রাজনৈতিক দলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। এই সরকারের দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে এবং রাষ্ট্রকে পুরোপুরি ভারতের করায়ত্ত করে নির্ভিগ্নে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে সকল কর্মকর্তাদের পথের কাঁটা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের ক্রূর মাধ্যমে হত্যা করা এবং বাকিদের দাপে দাপে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা এবং গুম করা হয়েছে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমলাদের।

এরপর চলছে নির্ভিগ্নে...
রাজ্য সরকারের ভূমিকা পালন করছে দখলদার সরকার। ভারত ফ্রিতে বাংলাদেশের আকাশ, স্থল, নৌ বন্দর ব্যবহার করছে। যদিও ভারতীয়রা ভারতের অভ্যন্তরে এবং বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিবহনের জন্য বিভিন্ন কর দিতে হয় তবে ভারত বাংলাদেশকে সেই কর বা ট্র্যাক্স দিতে হচ্ছে না।

জঙ্গি নাটক, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানান জটিলতা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, কৃষির আন্তর্জাতিক বাজার ভারতের আয়ত্তে করে নিয়েছে। বাংলাদেশকে করেছে পুরোপুরি ভারত নির্ভর রাষ্ট্র। অথচ কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ ছিলো কৃষি প্রধান দেশ।

লেখক: মিনার আহমেদ, ইটালী প্রবাসী।

মতপ্রকাশের সাথে বিডিরিলিজ.কম নিউজ পোর্টালের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা লেখকের একান্ত মতামত। বিডিরিলিজ.কম শুধুমাত্র লেখকের মত প্রকাশ করে ।