মনপুরায় গরীবের আলমগীর চেয়ারম্যান এ কেমন ষড়যন্ত্রের শিকার?

মনপুরায় গরীবের আলমগীর চেয়ারম্যান এ কেমন ষড়যন্ত্রের শিকার?

ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের জনপ্রিয় ব্যাক্তি ও অসহায় গরীবের চেয়ারম্যান নামে পরিচিত আমানত উল্লাহ আলমগীর প্রতিপক্ষের কঠিন ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পরেছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক আলমগীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিকালে ওই ষড়যন্ত্রকারীদের কঠিন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর সাময়ীক বরখাস্থ হয়েছেন। কিন্তু ইউনিয়নের গরীব ও অসহায় দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে যখন দাঁড়িয়েছেন তখনই আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

আমানত উল্লাহ আলমগীর অভিযোগ করে জানান, আমি বরখাস্থ হওয়ার পর থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী ওই ইউনিয়নের মানুষের উপর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছেন। আলাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। যদি কেউ অতি প্রয়োজনে বের হয় তাহলে তাদের উপর চড়াও হয় আলাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আলাউদ্দিন তার দলে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে বিশ্বাস করে। আর আমি যখনি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তখনি আলাউদ্দিন একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষ ঘরে থাকায় কর্মহীন হয়ে পরেছে। এতে সব চেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে অসহায় ও গরীব মানুষরা। বর্তমান সময়ে আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু আলাউদ্দিন নিজে কাউকে সাহায্য তো করবেই না অন্যকেও করতে দিতে না। তার ধারণা অসহায় ও গরীব মানুষ কষ্ট পেয়ে তার দলে চলে আসবে এবং তার কথা মতো চলবে। এ জন্য তিনি এসব তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন।  

যার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে ২/৩ দিন আগে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের উপর সন্ত্রাসী হামলার একটি ধীক্কার জনক ঘটনা।

আহত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফুল ইসলাম সোহাগ জানান, গত দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ ছিলো। গত ১ মে থেকে আবার মাছ শিকার শুরু হয়। তিনি আলমগীর চেয়ারম্যানের কলাতলি চরের মৎস্য আড়ৎ এর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মনপুরা ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাকিং থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কলাতলি চরে জেলেদের দাদন দেওয়ার জন্য রওয়ানা হই। নেওয়াজ নতুন বাজার এলাকায় আসলে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, তার ভাই ফরহান, লিটন ও মনিরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে আমাকে আলমগীর চেয়ারম্যানের লোক বলে অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে মারধর করে।

তিনি আরো জানান, আমাকে মারধরের সময় আলাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বলে আলমগীর চেয়ারম্যানের কোন লোক মনপুরা ইউনিয়নে থাকতে দিবে না। এখন থেকে মনপুরা ইউনিনে যদি একজন লোক থাকে সে থাকবে আলাউদ্দিনের লোক। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন জানান, চেয়ারম্যান আলমগীরের কোন লোকজনকে আমি বা আমার কোন লোক মারেনি। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা করেছে।

মনপুরা থানাও ওসি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সোহাগ বাদী হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনসহ মোট ২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।আসামীদের আটকের চেষ্টা চল‌ছে।