ভুয়া ডাক্তারের অপারেশন, র‍্যাবের অভিযানে দালাল কালা বাবু এবং ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার, জরিমানা ২২ লাখ

ভুয়া ডাক্তারের অপারেশন, র‍্যাবের অভিযানে দালাল কালা বাবু এবং ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার, জরিমানা ২২ লাখ

স্বল্পমূল্যে অপারেশনের আশ্বাসে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে এনে ‘ভুয়া চিকিৎসক’ দিয়ে অপারশেনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের প্রাইম হাসপাতালের মালিক ও দালালসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় হয়। দালাল ও হাসপাতালকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এর আগে গত বুধবার দুপুর থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজগেটের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে অবস্থিত হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযান চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।

র‌্যাব-২ এর এসপি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্ব অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সড়কদুর্ঘটনায় আহত এক রোগীকে পঙ্গু থেকে এই হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয় ২০ হাজার টাকা। পরে বিভিন্নভাবে দেড় লাখের উপরে খরচ নেওয়া হয়। তারা রোগীদের কমমূল্যে অপারেশনের আশ্বাসে এনে পাঁচ থেকে সাতগুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নিত। তাছাড়া মোহাম্মদ লাবলু নামে একজনকে দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে। যে মূলত ‘ভুয়া ডাক্তার’। এর আগেও আমি তাকে জেল দিয়েছি। আমার আগের ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশাও তাকে একই অপরাধে আটক করে জেল দিয়েছিল। জেল থেকে বারবার বেরিয়ে সে একই পেশাতে নামে।’

সারওয়ার আলম আরো বলেন, ‘পঙ্গু হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভাগিয়ে আনার কাজটি করে কালা বাবু নামে একজন দালাল। সেই মূলত দালাল সর্দার। তাকে শ্যামলীর ওয়েলকেয়ার নামে একটি হাসপাতালে মদ্যপ অবস্থায় গ্রেপ্তার করে জেল দেয়া হয়েছিল। বের হয়ে আবারো একই পেশায় নেমেছে।’

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান কাজলের সহযোগী এই কালা বাবু। তাঁর ছত্র ছায়ায় অপরাধ জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছে বাবু।

অভিযানে মোট ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল এবং ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরমধ্যে দালাল সর্দার বাবু আহমেদ ওরফে কালা বাবুকে এক বছরের জেল এবং ১০ লাখ জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালটিকে ছয় লাখ এবং তিন দালালকে ছয় লাখ (দুই লাখ করে) এবং বাকিদের নয়মাসের জেল দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘হাসপাতালটি রোগীদের কোনো প্রকার টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিত। তারা টেস্টের টাকা নিলেও ভুয়া কাগজ প্রিন্ট দিয়ে বের করে দিত। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেটা ভালো না। বেশিরভাগ সময় রোগী আনলেও পাশের আরেকটি হাসপাতাল (টেককেয়ার) থেকে রোগীদের অপারেশন করত।’